২৬ জুন ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদন, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন। ঈদুল ফিতরের দিন। প্রতিবেদনের দুখাই নামক (ছদ্দনাম) একটি মধ্যবয়সী লোক ডাস্টবিনের পাশে বসে কাঁঠাল খাচ্ছিলেন। পরনে ছেঁড়া প্যান্ট ছাড়া আর কিছু ছিলনা। কে এই লোক? কি তার পরিচয়? ঈদের দিন ডাস্টবিনের পাশে বসে কাঁঠাল খাচ্ছেন। ভাবতেই অবাক লাগে তাই না?
হ্যাঁ! এই অবাক লাগা বিষয়টি কিন্তুু সত্য। এই ঘটনা প্রতিনিয়ত আমরা দেখে যাচ্ছি নিশ্চুপ দর্শক হয়ে। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি কোনায় এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে। ঈদের দিন মানে তো খুশির দিন, নানা রঙের পোশাক আর বাহারি সব খাবার কত কিছু না তৈরি হচ্ছে আমাদের ঘরে। স্বজন, বন্ধু-বান্ধব একে অপরের ঘরে যাচ্ছে এবং আসছে। কত খুশি আর আনন্দ। ঈদে কতগুলো জামা আমরা আমাদের জন্য নিয়ে থাকি। কিন্ত আমাদের চার পাশের হতদরিদ্র মানুষ গুলোর দিকে কি আমাদের একবার ও নজর পরে না? কি অপরাধ ঐ বাচ্ছা ছেলেটার? যার বয়স ২-৪ বছর। দুনিয়াতে এসে কি ভুল করেছে সে? ঈদের দিন যখন তার সমবয়সী একটি ছেলে পিতার হাত ধরে মসজিদ থেকে বের হয় পরনে তার নতুন জামা, ঐ হতদরিদ্র ছেলেটি ধনীব্যক্তির ছেলেটিকে বার বার দেখে যায়, এবং তার পরনের ছেঁড়া জামাটিও।
নাম না জানা সে লোকটি যে কিনা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া পঁচা কাঁঠাল খাছিলেন, যাকে দেখে আমার অনেকে পাগল মনে করি, কেউ বা নাক চেপে ধরে তার পাশ দিয়ে হেটে যাই, অনেকে বা হাসা-হাসি করি এগুলো দেখে। কত খাবার আর টাকা আমরা দিনের পর দিন অপচয় করে যাচ্ছি!! তার মধ্য থেকে খুব বেশি কিছু না, অতি সামান্য কিছু যদি আমরা তাদের জন্য খরচ করি তাহলে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে আমাদের?
কি হয়ে গেল আমাদের মনুষ্যত্বের? ধনীরা দিনের পর দিন ধনী হয়ে যাচ্ছে আর দরিদ্ররা হতদরিদ্র, ওরা তো আমাদের মতোই মানুষ, তাইনা? তাহলে আমরা যা আমাদের জন্য চিন্তা করতে পারি তাদের জন্য কেন নই? আমরা চাইলে সব করতে পারি। তাদের জন্য একটা ভালো পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে।
![]() |
| ঈদের দিনে রাজধানীর কমলাপুরে একটি ডাস্টবিনে বসে কাঁঠাল খান এই ব্যক্তি। ছবি : মোহাম্মদ ইব্রাহিম |
কি হয়ে গেল আমাদের মনুষ্যত্বের? ধনীরা দিনের পর দিন ধনী হয়ে যাচ্ছে আর দরিদ্ররা হতদরিদ্র, ওরা তো আমাদের মতোই মানুষ, তাইনা? তাহলে আমরা যা আমাদের জন্য চিন্তা করতে পারি তাদের জন্য কেন নই? আমরা চাইলে সব করতে পারি। তাদের জন্য একটা ভালো পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে।
খুব বেশি কিছু না, নিজেদের থেকে সামান্য কিছু তাদের জন্য দিয়ে দুখাই নামের মানুষগুলোর হাসির কারণ আমরা চাইলে হতে পারি। মানুষ তো মানুষেরই জন্য।


0 comments